Saturday, August 26, 2017

আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের পটভূমি

আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রের পূর্বকথা


ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক যুগ থেকে ৭০টি দেশে বসবাসকারী প্রায় ৪০ কোটি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর উপর চলমান শতাব্দী ব্যাপী বৈষম্য ও জাতিগত আগ্রাসন জাতিসংঘ স্বীকার করেছে। ১৯২৩ সালে কানাডার হৌদেনসোনি প্রধান দেসকাহেহ্ সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে সফর করেন তৎকালীন জাতিপুঞ্জের কথা বলার জন্য এবং তাঁর স্বজাতির লোকেরা যাতে তাদের আইনানুসারে, তাদের নিজস্ব আবাসভূমিতে এবং তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী বসবাস করতে পারে সেই অধিকারের কথা তুলে ধরতে। কিন্তু তাঁকে জাতিপুঞ্জে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। এমনকি তাঁকে ১৯২৪ সালে তাঁর দেশে (আবাসভূমিতে) ফিরতেও দেয়া হয় নি। যদিও তিনি সেসময় জাতিপুঞ্জে কথা বলতে পারেনি, কিন্তু তাঁর সেই লক্ষ্য ও স্বপ্ন পরবর্তী প্রজন্মকে প্রবলভাবে উজ্জীবিত করেছিল যা আজো অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

১৯৭০ সালে জাতিসংঘের সংখ্যালঘু রক্ষা ও বৈষম্য প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপ-কমিশন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত পরিস্থিতির উপর এক সামগ্রিক পর্যালোচনা শুরু করার সুপারিশ গ্রহণ করে। উক্ত সুপারিশ অনুসারে ১৯৭১ সালে মি. হোজে মার্টিনেজ কোবো’কে এ বিষয়ে গবেষণার দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে গবেষণার পর ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যের সমস্যাবলীর গবেষণাকর্ম’ শিরোনামে ২২টি অধ্যায় বিশিষ্ট ১৪০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করেন। উক্ত প্রতিবেদনে যে সকল সুপারিশ গ্রহণ করা হয় তন্মধ্যে অন্যতম ছিল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সম্বলিত একটি আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা।

উক্ত সুপারিশমূলে ‘সংখ্যালঘু রক্ষা ও বৈষম্য প্রতিরোধ সংক্রান্ত উপ-কমিটি’ (পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘মানবাধিকার বিষয়ক উপ-কমিশন’ করা হয়) কর্তৃক ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ’ ১৯৮২ সালে স্থাপন করে । মি. হোজে মার্টিনেজ কোবো’র পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশমালা অনুসারে উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সংক্রান্ত পরিস্থিতির উপর এক ঐতিহাসিক পর্যালোচনা শুরু করে।

জাতিংঘের সদস্য রাষ্ট্র ও আদিবাসী প্রতিনিধিদের মধ্যে ১৯৮৫ হতে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত আলোচনা-পর্যালোচনার উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ কর্তৃক ৪৬টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করা হয় এবং তা ১৯৯৪ সালে মানবাধিকার উপ-কমিশনে পেশ করা হয়। উপ-কমিশনে উক্ত খসড়া ঘোষণাপত্রে অনুমোদনপূর্বক মানবাধিকার কমিশনে প্রেরণ করে।

ইতিমধ্যেই জাতিংঘ ১৯৯৩ সালকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী বর্ষ এবং ৯ই আগষ্টকে আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। অপরদিকে ১৯৯৩ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৯৫-২০০৪ সাল’কে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দশক হিসেবে ঘোষণা করে। উক্ত দশকের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য ছিল ঘোষিত দশকের মধ্যে ’আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্ত করা। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত খসড়া ঘোষণাপত্রের বিস্তৃত ও দফাওয়ারী পরীক্ষা-নিরীক্ষার  লক্ষ্যে মানবাধিকার কমিশন ১৯৯৫ সালে ‘আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ’ স্থাপন করে।

১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রত্যেক বছর আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও এনজিও প্রতিনিধিদের মতামত গ্রহণসহ ঘোষণাপত্র পর্যালোচনার নিয়মিত অধিবেশন বসে, কিন্তু খসড়া ঘোষণাপত্রের চূড়ান্তকরণের নিমিত্তে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে উক্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ ব্যর্থ হয়। সর্বসম্মত ঐক্যমত্যে উপনীত না হওয়ার পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, আদিবাসীদের ‘Peoples’ হিসেবে আখ্যায়িত করা, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সমষ্টিগত অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে মতানৈক্য।

২০০৫ সালের ২০ এপ্রিল মানবাধিকার কমিশন ‘ আদিবাসী জনগোষ্ঠী বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ’ এবং ’আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ’ এই দুটি ওয়ার্কিং গ্রুপের কাজ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এমতাবস্থায় ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ‘আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান লুইস এনরিক চেভেজ (পেরু’র নাগরিক) খসড়া ঘোষণাপত্রের বিতর্কিত অনুচ্ছেদগুলো সংশোধনপূর্বক মতৈক্যমূলক শব্দ সন্নিবেশ করে মানবাধিকার কমিশনে পেশ করে।

এরপর ২৯ জুন ২০০৬ সালে ‘মানবাধিকার কমিশন’-এর পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত ‘মানবাধিকার পরিষদ’ ইহার উদ্বোধনী অধিবেশনে পক্ষে ৩০ ভোট, বিপক্ষে ২ ভোট ও অনুপস্থিত ১২ ভোটে উক্ত আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে এবং সাথে সাথে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পরবর্তী অধিবেশনে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করে। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর উক্ত খসড়া ঘোষণাপত্র সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে নামিবিয়া উক্ত ঘোষণাপত্রের উপর সাধারণ পরিষদের ভোট গ্রহণ পিছিয়ে নেয়ার প্রস্তাব পেশ করে। পক্ষে ৮২ ভোট, বিপক্ষে ৬৭ ভোট ও অনুপস্থিত ২৪ ভোটে এই কমিটি উক্ত প্রস্তাব অনুমোদন করে এবং এর ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও তৃতীয় কমিটির প্রস্তাবানুসারে খসড়া ঘোষণাপত্রের উপর ভোট গ্রহণ স্থগিত করে। এর ফলে সাধারণ পরিষদের ভোট গ্রহণ পরবর্তী ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যায়।

অবশেষে ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে পক্ষে ১৪৩ ভোট, বিপক্ষে ৪ ভোট ও অনুপস্থিত ১১ ভোটে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক এই ঘোষণাপত্র চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আড়াই দশকের কর্মপ্রচেষ্টার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে এবং আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র নিঃসন্দেহে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক। 

Wednesday, July 05, 2017

নারী আন্দোলন: এক ও অনন্য নাঙ্গেলি

১৬৪৭ সালে নারী অধিকার নিয়ে সর্বপ্রথম কথা বলা শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীরা জেগে উঠেন। নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হন। তেমনই একজন ছিলেন ফ্রান্সের নাট্যকার ও বিপ্লবী নারী ওলিম্পে দ্যা গগ্স। তিনি নারী অধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলন করায় ১৭৯৩ সালে এই নারী নেত্রীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ফ্রান্সের সরকার। ফ্রান্সের নাট্যকার ও বিপ্লবী নারী ওলিম্পে দ্যা গগ্স’র হত্যার মধ্য দিয়েও নারী অধিকার সেভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে না পারলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীরা কিন্তু তাদের অধিকার নিয়ে যথেষ্ট রকম সচেতন হয়ে উঠে। এরফলে নারীরা সংগঠিত অথবা স্ব স্ব অবস্থান থেকে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ে যান। অন্ধত্ব, দাসত্ব, পুরুষতান্ত্রিক, ধর্মীয় প্রথা ভেঙে যে সমস্ত নারী আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মার্গারেট ব্রেন্ট, মার্গারেট লুকাস, ওলিম্পে দ্যা গগ্স, মেরি ওলস্ট্যানক্রাফট ছিলেন অগ্রজ।
এরপর ১৮৪০ সালে নারী আন্দোলন নিয়ে দারুণভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেন এলিজাবেথ কেডি স্ট্যান্টন, লুক্রেশিয়া মটো, সুশান বি অ্যান্টনি, লুসি স্টোন, অ্যাঞ্জেলিনা এম গ্রিম, সারা এম গ্রিম। তবে আলোচিত এই নারী বিপ্লবীদের সক্রিয় হয়ে উঠার ৩৭ বছর পূর্বেও ভারতের একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী জেগে উঠেছিল নিজ অধিকার নিয়ে। এই বিপ্লবী নারীর নাম হচ্ছে নাঙ্গেলি (Nangeli)। এই নারী নিজের জীবনের বিনিময়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘স্তন আমার অনাবৃত রাখব নাকি আবৃত? সে নিয়ম করার তুমি কে’?
১৮০৩ সালে একটি কুস্কার প্রথা চালু ছিল ভারতের কেরল অঙ্গরাজ্যে। ত্রিবাঙ্কুর রাজা এ রাজ্যের নিচু হিন্দু জাতের মধ্যে একপ্রকার শুল্ক বা করারোপ করেছিল। এ করটির নাম ‘স্তনশুল্ক’ (Breast Tax), স্থানীয় ভাষায় নাম ‘মুলাক্করম’ (Mulakkaram)।
সে সময় ওই রাজ্যে নিয়ম ছিল শুধু ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কোনো হিন্দু নারী তাদের স্তনকে কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখতে পারবে না। এখানে শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ শ্রেণির হিন্দু নারীরাই তাদের স্তনকে এক টুকরো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারত। এছাড়া বাকি হিন্দু শ্রেণির নারীদের প্রকাশ্যে স্তন উন্মুক্ত করে রাখার আইন প্রচলন ছিল ত্রিবাঙ্কুর রাজার এই রাজ্যে। তবে যদি কোনো নারী যদি তার স্তনকে কাপড় দ্বারা আবৃত করতে চাইত, তাহলে তাকে স্তনের মাপের উপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট হারে ট্যাক্স বা কর দিতে হত।
‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’র বড় অংশই যেত ত্রিবাঙ্কুরের রাজাদের কুলদেবতা পদ্মনাভ মন্দিরে। দলিতদের আজীবন ঋণের নিগড়ে বেঁধে রাখার এই ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন আলাপুঝার এঝাওয়া সম্প্রদায়ের নারী নাঙ্গেলি (Nangeli)। ১৮০৩ সালে এই সাহসিনী নারী রাজার ওই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তার স্তনকে আবৃত করে রাখে।
নাঙ্গেলি তার স্তন আবৃত করে রাখায় গ্রামের শুল্ক সংগ্রাহক তার কাছ থেকে ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ দাবি করেন। কিন্তু নাঙ্গেলি ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’র প্রতিবাদে নাঙ্গেলি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের দুটি স্তন ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে কলাপাতায় মুড়ে ওই শুল্ক সংগ্রাহকের হাতে তুলে দেন। কাটা স্তন দেখে শুল্ক সংগ্রাহক হতবাক হয়ে যায়। স্তন কেটে ফেলার কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় নাঙ্গেলির। শেষকৃত্যের সময় নাঙ্গেলির স্বামী নিজেও ঝাঁপিয়ে পড়েন জ্বলন্ত চিতায়। এই ঘটনার পর থেকেই ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ রোহিত হয়। তবে ‘মুলাক্করম’ বা ‘স্তনশুল্ক’ রোহিত হলেও দক্ষিণ ভারতে নারীদের স্তন আবৃত করার জন্য বহু সংগ্রাম করতে হয়েছে। এমনকি এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা পর্যন্ত হয়েছে।
উনিশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে এসে কিছু হিন্দু নারী তাদের শরীরের উপরের স্তন আবৃত করার অধিকার দাবি করেন, তখন হিন্দু পুরোহিতরা স্পষ্ট করে বলে দেন, নিচু বর্ণের নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করা ধর্মবিরোধী। এ বিষয়টি নিয়ে ১৮৫৯ সালে দক্ষিণ ভারতে দাঙ্গা পর্যন্ত হয়েছিল। এই দাঙ্গার উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু নারীদের শরীরের উপরের অংশ আবৃত করার অধিকার আদায় করা। ভারতে এই দাঙ্গা ‘কাপড়ের দাঙ্গা’ হিসাবেও পরিচিত।
এ দিকে নারীর অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসকে স্মরণ করতে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছরই পালিত হয় নারী দিবস। ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রতি বছর নারী দিবসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় নাঙ্গেলিকে। নিম্নবর্ণের নারীর আত্মমর্যাদা আদায়ের সংগ্রামে আজও নাঙ্গেলি সে রাজ্যে এক এবং অনন্য সৈনিক। নিজের জীবন দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিম্নবর্ণের নারীর সম্মান।

Thursday, March 16, 2017

হঠাৎ হারিয়ে গেলে
                    -এস আর ধামাই

আমাকে তখন হারিকেনের আলোয় কিংবা ফোনের শব্দে,
কোন কাছের চেনা কিংবা দূরের কারও কাছে,
ভোরের আলোয় কিংবা সন্ধ্যে বাতিটে আমাকে খুঁজবে,
দেখতে দেখতে কোথাও আমার দেখা  আর পাবে না।


হয়তো, কোন ভাই, বোন কিংবা কোন বাবা, মা’র কাছে,
হয়তো, কোন সন্তান কিংবা কোন পথিকের কাছে,
হয়তো কোন হাট বাজারে কিংবা কোন মেলা পার্বনে আমাকে খুঁজবে;
পেতে পেতে হয়তো হারিয়ে খুঁজেও আমাকে কোথাও পাবে না।

কাপ্তাই লেকের কোন নৌকা কিংবা জেলের জালের শব্দে,
সুবলং ঝর্ণা, রিসাং ঝর্ণা কিংবা হিমছড়িতে,
আলুটিলা, ঝুলন্ত ব্রিজ কিংবা নিলগিরিতে আমাকে খুঁজবে;
কোন ছন্দ কিংবা মানুষের ভীড়ে আমাকে পেতে পেতে হয়তো পাবে না।

যেদিন হঠাৎ হারিয়ে যাবো, আমাকে কোথাও পাবে না।
ফেন্টাসি কিংডম, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত কিংবা বাড়ির ছাদেও,
চেনা সেই পাহাড়, পর্বত, চেঙ্গী নদী, কাপ্তাই লেক কোথাও আমাকে পাবে না।
সেদিন হঠাৎ হারিয়ে গেলে, সত্যি কেউ আমাকে পাবে না।

সেদিন হঠাৎ হারিয়ে গেলে সত্যি কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না।
আমাকে পাবে হয়তো ক্লান্ত বিকেলের লাল চায়ের কাপে,
কারও প্রতি নিঃশ্বাসে, কিংবা কোন খোলা উঠানে,
তবু মনে রেখো আমি কোথাও নাই, সেদিন কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না।

আদিবাসী, ভূমি ও জীবন

আদিবাসীদের কাছে ভূমিই জীবন, ভূমিই অস্তিত্ব। আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কিছু বলার আগে, সম্পদ, ভূমি, বন, প্রাণী জগত, ধরিত্রী ও অধিকার সম্পর্কে আদ...