Showing posts with label Indigenous and Minority People Issue. Show all posts
Showing posts with label Indigenous and Minority People Issue. Show all posts

Sunday, May 12, 2013

আদিবাসীর স্বীকৃতি কেন রাষ্ট্র সইতে পারবে না- বাংলানিউজকে চাকমা রাজা

আদিবাসীর স্বীকৃতি কেন রাষ্ট্র সইতে পারবে না বাংলানিউজকে চাকমা রাজা
Copied from http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=500e0f4202bd5a52ca377fc17a762f8d&nttl=12052013195711 

আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের কাঁধে কি এমন অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তাবে যা সইতে পারবে না, তা বুঝতে পারি না। সরকার আদিবাসীদের যেন না দেখার ভান করছে। তারা যেন পাহাড়ে জুমচাষ দেখে না। বিস্ময়কর হলো, এতো বঞ্চনার মাঝেও আদিবাসীরা নিজস্ব ঐতিহ্য আর স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। টিকে আছে। আশা ছেড়ে দেয়নি।

আদিবাসীদের হয়ে এভাবেই না পাওয়ার বেদনা ফুটিয় তুলছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। সম্প্রতি বাংলানিউজের সঙ্গে রাঙামাটিতে দীর্ঘক্ষণ একান্ত কথা বলেন ৫১তম এই চাকমা রাজা। যিনি মনেপ্রাণে প্রজাদের ভালোবাসেন। প্রজাদের খোঁজ নিতে ঘুরে বেড়ান পাহাড়ে পাহাড়ে। 

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট সাইদ আরমান ও স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাজেদুল নয়ন। সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট শোয়েব মিথুন। 

চাকমা রাজা বলেন, “আমাদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের কাঁধে এমন কি দায়িত্ব বর্তাবে? স্বীকৃতি না দিতে যেসব অজুহাত দেখানো হয়, তা কারণ হতে পারে না। বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথা চাড়া দেবে। কীভাবে এমন কথা বলা হয় বুঝি না। আমাকে রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটি হবে সম্পৃক্ততাবাদ। আমি সেটি মনে করি। আমার নাম যদি সংবিধানে আসে তবে তো আমি রাষ্ট্রের সঙ্গে মিশে গেলাম। তাই নয় কি?” CHAKMA-RAJ-02

অনেকটা দুঃখ আর প্রজাদের না বলা কথা নিজে বলতে গিয়ে ক্ষোভ নিয়েই বলেন, “বিচ্ছিন্ন হতে চাইলে তো আরেকটি রাষ্ট্র ঘোষণা করতাম। আরেকটি সংবিধান চাইতাম। এই দেশে যুক্ত হলে আমি মনে প্রাণে বাঙালি হয়ে যাবো। আমার নামটা না থাকলেই বরং বিছিন্নতাবাদী হওয়ার সুযোগ থাকে।” 

তিনি বলেন, “আদিবাসীরা তাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখেনি। রেখেছে রাষ্ট্র। তবে রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, জাতীয় আইনে যেটিই বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে আদিবাসী জাতি হিসেবেই আমরা পরিচিত। আমরা নতুন কিছু চাই না। এখন নতুন রাষ্ট্র গঠনে অন্তর্ভুক্ত করুন। তবে প্রেক্ষাপট অনুসারে।” 

নিজেদের আদিবাসী দাবি করার কারণ হিসেবে য‍ুক্তিও তুলে ধরেন তিনি। 

দেবাশীষ রায় বলেন, “যারা প্রথাগত আইনে চলছে, দলিল নেই, গোষ্ঠীগত বসবাস, তারাই আদিবাসী। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অধিকার ছাড়াও সমষ্ঠিগত অধিকার রক্ষা করে চলতে চাই। এরাই তো আদিবাসী। তবে আমাকে মেনে নিলেই কি সব ছেড়ে দিতে হবে? পাংখোয়ার কেউ কি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবে? হবে না। মেনে নিলে সরকারের উন্নয়ন নীতিতে শুধু মনে রাখতে হবে। এর থেকে বেশি দিতে হবে না। পদমর্যাদা মন্ত্রী হতে হবে না, শুধু দৃষ্টিভঙ্গীটা পাল্টাতে হবে।”

চাকমা সম্প্রদায়ের এই অভিভাবক বলেন, “এখানে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আদিবাসীকে মেনে নিলে সমঅধিকার চর্চার সুযোগ হবে। আদিবাসীদের বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি প্রণয়ন করতে হবে। আমি জানি না, আরও শত বছর অপেক্ষা করতে হবে কি না।” 

সাক্ষাৎকারে রাজা বলেন, “এতো ঝুঁকি আর প্রতিবন্ধকতা মেনে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রজাদের সন্তানেরা স্কুলে যাচ্ছে। যারা ক্ষুদ্র জনসংখ্যার জাতি তাদের একটু সমস্যা হয়। তাদের আত্মীয়-স্বজন কম। তাদের সুযোগ কম, সামাজিক বন্ধন কম। তাদের জন্য আবাসিক সুবিধা করতে শহরে হোস্টেল থাকা দরকার। যাতে সেখানে থেকে পড়াশুনা করতে পারে। এরপরও সৎ সাহস রয়েছে। আদিবাসীদের জীবনটাও যেন একটা সংগ্রাম।” CHAKMA-RAJ-03

“বিগত ১০ বছর ছাড়া সারা পৃথিবীতে যারা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, তাদের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, আপনাদের সংবিধানে কয়টি শব্দ দিয়েছেন অথবা সংবিধান প্রণয়নের সময় রাষ্ট্র পরামর্শ করেছে কি না। উত্তর হবে, না।” 

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। উনি বলেছিলেন, চাকমা বাঙালি হতে পারে না। আমার জাতীয় পরিচয় বাঙালি হতে পারে না। সেটিই ঠিক। তখন সেটি মানা হলে আজ সমস্যা হতো না।” 

রাজা বলেন, “আইনেও আছে আদিবাসী। ক্ষুদ্র, নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনেও ভেতরে বলা আছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে আদিবাসী বোঝাবে এটা আমরা লিখিনি। সাংসদরা দিয়েছেন। বর্তমান সরকারই করেছে।”

দেবাশীষ বলেন, “পাবর্ত্য চুক্তির অবাস্তবায়িত অংশ অনেক রয়ে গেছে। এর বাস্তবায়িত অংশ ও পদ্ধতি কার্যকর করলে অনেক সুফল পাবো।  সরকারের কাছ থেকে কিছুই পাই না। হেডম্যানরা-কারবারিরা কীভাবে বিচার, আইনশৃংখলা পরিবেশ রক্ষা করবেন? কীভাবে প্রথাগত এসব প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে? আমরা প্রতীক্ষায় আছি, প্রধানমন্ত্রী এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে। তাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়।” 

তিনি বলেন, “একজন হেডম্যান ১ হাজার টাকা আর কারবারি ৫০০ টাকা ভাতা পায়। কীভাবে চলবে তারা? খাজনা যেটি পায় তাও খুবই নগন্য। হেডম্যানরা না থাকলে মামলার চাপে ওসিরা থাকতে পারত না। তারা না থাকলে পাহাড়ে ওসিরা মামলার চাপে থাকত পারত না। তবে কেন সরকার তাদের সহায়তা দেবে না। দেখা যায়, একজন ৩ টাকার খাজনা পরিশোধ করে। অথচ তার পেছনে হেডম্যানের খরচ ২০ টাকা। অথচ এখানে সরকারের লোকজন রাখতেও তো খরচ করতে হতো।” 

তিনি বলেন, “সরকার আদিবাসী না দেখার ভান করছে। সরকার পাহাড়ে জুম চাষ দেখে না। কেউ পছন্দ করে না। জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) বলেন, আদিম। আদিবাসী নাই বললে কি উড়ে যাবে? উড়ে যাবে না। প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে আছে। তবে দুর্বলভাবে আছে। রাষ্ট্রের সহায়তা দরকার।” CHAKMA-RAJ-01

চাকমা রাজার মতে, পার্বত্য মন্ত্রণালয়কে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কেউ বলছেন, পূর্ণমন্ত্রী হলে ভালো হবে। কারণ প্রতিমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আঞ্চলিক পরিষদের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী ফোকাল পয়েন্ট থাকতে পারে। তবে মেইন স্টিমে আসবে। সেটি হলে হাস্যকর কিছু হবে না। সব মন্ত্রণালয়ের পাহাড়ের কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পদ্ধতি হতে পারে। সেখান থেকে সেটি আঞ্চলিক পরিষদে আসবে। তারা মতামত দিয়ে পাঠাবে।” 

“পাহাড়ি-বাঙালি পুলিশ এক সঙ্গে থাকলে স্বস্তি বোধ করেন স্থানীয়রা”- এ কথা জানিয়ে চাকমা সার্কেল চিফ বলেন, “এটি করলে সমস্যা কোথায়। প্রয়োজনে এক জাতির পুলিশ আরেক জাতির এলাকায় দেওয়া যেতে পারে। সব ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কেন। মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে কমিউনিটি পুলিশ চালু করা যেতে পারে।”

পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত বিষয়ে তিনি বলেন, “সাধারণ আদিবাসীরা এটি চায় না। আমি একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়, আমি নাকি দুই দলকে এক করে সংঘাতে লাগিয়ে দিচ্ছি। সেটি ঠিক নয়। আমি চাই না, আমার যুবকরা মারা যাক। আমি চেষ্টা করেছিলাম বছর তিনেক আগে। সংলাপও হয়। তবে বেশি দূর এগিয়ে নেওয়া যায়নি। ফসকে গেছে।” 

Wednesday, April 17, 2013

সীতাকুন্ডে ত্রিপুরা পল্লীতে সন্ত্রাসী হামলা, ৩টি ঘর ভাঙচুর,আহত ১০


সীতাকুন্ডের একটি ত্রিপুরা পল্লীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও তান্ডব চালিয়েছে একদল দুষ্কৃতিকারী। এসময় আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন ত্রিপুরা নারী-পুরুষ। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করলেও এ ঘটনায় ত্রিপুরা পল্লীতে আতংক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলের দিকে উপজেলার মসজিদ্দা পাহাড়ের ত্রিপুরা পল্লীতে সালাউদ্দিন, নুর উদ্দিন ও সঞ্জয় নামক ৩ বিএনপি ক্যাডার মদ্যপ অবস্থায় ত্রিপুরা নারীদের উত্ত্যক্ত করা শুরু করলে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন এর প্রতিবাদ করে। এসময় মাতালদের সাথে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হলে স্থানীয় একটি বাগানের কেয়ার টেকার কামাল উদ্দিন এক মাতাল সালাউদ্দিনকে চড় থাপ্পর দিয়ে সবাইকে তাড়িয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সালাউদ্দিন মোবাইলে ফোন করে রফিক, জসীম, আবছারসহ আরো কিছু দুষ্কৃতিকারীকে ডেকে এনে দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ত্রিপুরা পল্লীতে রীতিমত তান্ডব চালায়। তারা কমপক্ষে ৩টি বসত বাড়ি ভাঙচুর করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যাকে সামনে পায় তাকেই পিটিয়ে আহত করে। এই পল্লীর বাসিন্দারা জানায়, হামলায় বাশিরাম ত্রিপুরা (১৮), লক্ষী ত্রিপুরা (২০), সাং চাঁদ ত্রিপুরা (২৪), এপাতি ত্রিপুরা (২৫), পাখিজন ত্রিপুরাসহ অন্তত ১০ নারী-পুরুষ ও বৃদ্ধ আহত হয়। আহতদের মধ্যে পাখিজনের অবস্থা সংকটজনক। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা রাতেই সীতাকুন্ড থানায় উপরিউক্ত দুষ্কৃতিদের আসামি করে মামলা দায়ের করে। সীতাকুন্ড থানার ওসি সামিউল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযোগ পাবার সাথে সাথে দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।

Tuesday, April 16, 2013

Barack Obama asked to protect religious minorities in Bangladesh

Protesting against the rise in violence against minorities in Bangladesh, Hindus of Bangladeshi-origin have gathered outside the White House here, asking US President Barack Obama to protect them.
Protesting against the rise in violence against minorities in Bangladesh, Hindus of Bangladeshi-origin have gathered outside the White House here, asking US President Barack Obama to protect them.

WASHINGTON: Protesting against the rise in violence against minorities in Bangladesh, Hindus of Bangladeshi-origin have gathered outside the White House here, asking US President Barack Obama to protect them and enlist radical Jamat-e-Islami as a foreign terrorist group. 

Raising slogans like "We do not want Talibanisation of Bangladesh" and "Save Hindus", Bangladeshi American Hindus in a memorandum asked Obama to save the religious minorities of Bangladesh and enlist " Jamat-e-Islami, Bangladesh" as a foreign terrorist organisation. 

"We are urging everyone to be united in outrage and by humanity and do all you can to save the endangered minorities of Bangladesh," the memorandum said as the protestors demanded enactment of hate crime laws by the Bangladeshi Government. 

They also demanded establishment of a monitoring cell with prosecutorial authority to monitor, prevent, and prosecute all communal incidents; and creation of a minority welfare ministry with authority to create a special police force drawn from the minority populace. 

The peaceful protest rally was organised by the supported Bangladesh Hindu Buddhist Christian Unity Council, with support from various other organisations like Hindu American Foundation and the Indian American Intellectual Forum. 

"Bangladesh Hindu Buddhist Christian Unity Council, USA is calling upon the civilized world to come to the protection of these innocent and peaceful people who have committed no other wrongs than belonging to faiths other than what the terrorists would choose for them. They can count on no one and go nowhere," the statement said. 

Meanwhile, another organisation - American United for Human Rights - announced to hold a mass rally of American Muslims in New York on Saturday to demand establishment of independent war crimes tribunal that meets the standards of international law.

For more; http://economictimes.indiatimes.com/news/news-by-industry/et-cetera/barack-obama-asked-to-protect-religious-minorities-in-bangladesh/articleshow/19489343.cms?intenttarget=no

Tuesday, April 09, 2013

Settler attacks in Matiranga: 27 Jumma families flee homes

9 April 2013 

Twenty seven Jumma families fled their homes on Friday, 5 April, after the Bengali settlers attacked their village Pran Kumar Para under Barnal Union in Matiranga Upazila of Khagrachari district. The attacks also left 10 villagers injured.

The victims have now taken shelter with their relatives in the village of Apurno Mahajon Para in Gomti Union.
Some of the attack victims reached Khagrachari today after tracking a long distance taking a devious mountainous route.
According to them, the first attack took place on 2 April. ‘On the night of that day, around 2 am, some 40 – 50 illegal Bengali settlers surrounded the house of Durjoy Tripura in Pran Kumar Para and asked him whether he had seen any UPDF men. They said, ‘When Durjoy answered ‘No’, the setters began beating him. The attackers also broke door of the house of Paltan Joy Tripura, 42, they added.

They said the Border Guards Bangladesh (BGB) personnel were present behind the settlers during the attack.
The second attack was launched on Friday night (5 April). About the incident of that day, Dhana Bikash Tripura, 37, son of Jobindra Tripura has it to say: ‘It was about 1:30 at night. About 2 – 3 thousand settlers from Chouddagram Para, Sharat Master Para, Jafar Para and Karim Master Para under Amtoli and Bornal Unions surrounded our village from four directions. Then some of the settlers threw a few stones on the roof of a Bengali house and burst firecrackers before attacking my house. They beat me severely. They hit me on the head and I fell on the ground. When my wife, my mother and my brothers came to save me, the attackers beat them as well. The settlers shouted ‘Allahu Akbar’ and ‘Naraey Takbir’ at the time of the attack.’

He said the marauding settlers also smashed his house, shop, a television, a bicycle and other belongings in the house and looted goods from his shop and mobile handsets.

Those who were injured in the attack are Durjoy Tripura, 22, Kanta Ray Tripura, 30, Chande Ray Tripura, 22, Kambha Ray Tripura, 20, Tapan Bikash Tripura, 25, Jyoti Ray Tripura, 21, Boba Ray Tripura, 18, Kishore Ray Tripura, 28 and Shova Ranjan Tripura, 24. Of them, Tapan Bikash Tripura sustained fairly severe injury to his legs and ears and is now suffering hearing impairment. Since all the residents of the village fled their homes, the only non-government primary school in the village established by Jabrang Kalyan Samiti remains closed, while the SSC examinees of the area cannot attend their exams fearing further attacks.

Awami League leaders blamed
The victims blamed the local Awami League leaders for the attacks. Dhana Bikash Tripura said, ‘We could recognize some of the attackers – AL leaders Hashem, Kalam Mian, Monir, Zakir, Momin and Karim.’ According to him, the second attack was led by Rafique, member of Ward No. 6 of Bornal Union, Mir Kashem, Momin, Shamshu Member and Yunus Member of Amtoli Union. ‘We all fled our homes – all the villagers. We have taken shelter in Apurno Mahajon Para in Bama Gomti.’ he added.

After the incident, on 7 April, Md. Malek, a Bengali settler and a BNP activist, threatened in the presence of BGB personnel, saying: ‘If the Tripura people don’t leave the village of their own will, we’ll butcher them all.’
‘We are now living in fear and afraid to go back to the village. We want safety and security of life and property.’ the victims said. Tapan Bikash Tripura, another victim, said, ‘A little after midnight I woke up to shouts and screams and went out of the house with my wife and children. Then I saw the settlers beating my elder brother Dhana Bikash Tripura. I went up to them and pleaded with them not to beat him. But they did not listen to me.’
‘At this point I heard Jahangir, Monir, Mir Kashem, Nuru Mian, Hashem and Abul Hossain shouting: “We’ll spare none of the Tripura people, we’ll chop them off, and we’ll finish them off.”’ He said the settlers also beat him. ‘When I tried to save my brother, they slapped me on the face. They also beat me with sticks, hitting on my ears. I fell on the ground unconscious.’

He went on to say: ‘I recognized my attackers. They are Hashem, Monir and Abul Hossain. They also took my mobile handset and my wrist watch.’
The 27 Jumma families affected by the attack and now taken shelter in Apurno Mahajon Para are Dhana Bikash Tripura, Paltanjoy Tripura, Toklai Moni Tripura, Ratna Devi Tripura (a widow), Jobindra Tripura, Toimala Tripura, Chakkela Tripura, Kanta Ray Tripura, Shova Ranjan Tripura, Lotabi Tripura, Chande Ray Tripura, Durjoy Tripura, Jyoti Ray Tripura, Binanta Tripura, Ekana Tripura, Dui Ana Tripura (village head or Karbari), Tapan Bikash Tripura, Ratan Bhushan Tripura, Kambha
Ray Tripura, Kishore Ray Tripura, Dhana Mohan Tripura, Baron Kumar Tripura, Shialcha Tripura, Jibon Kumar Tripura, Jawhr Lal Trpura, Bhagna Kumar Tripura and Siddhi Joy Tripura.
 
UPDF condemnsThe United Peoples’ Democratic Front (UPDF) has condemned the attacks on the Tripura people in Matiranga and demanded that the perpetrators be brought to justice. ‘The unprovoked attack was aimed at driving the Jumma people from their village and take away their lands and homestead’, Riko Chakma, a UPDF organizer in Khagrachari said.

The attacks were also condemned by Democratic Youth Forum, Hill Women’s Federation and Hill Students’ Council.
 
Sources: chtnews.com  
 

Sunday, March 10, 2013

Please donate to help the minority communities in Bangladesh

Photo: Daily Star

Minority communities in Bangladesh have been the victims of violent attacks in Bangladesh by extremists since February 28, 2013. More than 1,000 homes and nearly 100 places of worship were attacked over the past few days. Many died, succumbing to their injuries, and homes, temples and institutions have been burned down. Your support for these communities is very necessary now.


http://www.amnesty.org/en/for-media/press-releases/bangladesh-wave-violent-attacks-against-hindu-minority-2013-03-06
http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=270925
http://www.thedailystar.net/beta2/news/jamaat-continues-attacking-hindus/
http://bdnews24.com/bangladesh/2013/03/02/minorities-resent-jamaat-attacks
http://www.nytimes.com/2013/03/01/opinion/bangladesh-40-year-quest-for-justice.html?_r=0
http://www.nytimes.com/2013/03/01/opinion/bangladeshs-40-year-quest-for-justice.html?_r=1&

Please donate to help the minority communities in Bangladesh who have been the victims of recent violent attacks. Any amount is helpful. US Bangladesh Advisory Council is partnering with BLAST (Bangladesh Legal Aid and Services Trust), a leading legal services organization which has offices in 19 districts (www.blast.org.bd/). Please donate by March 10 so that USBAC, BLAST and local volunteers can get help to the affected communities promptly. You can use your PayPal account to donate. If you don’t have a PayPal account you can still use your credit card on the Paypal site mentioned bellow:
http://usbac.org/Donate.html
http://www.usbac.org
http://www.facebook.com/USBAC
http://twitter.com/USBangladesh

Tuesday, January 17, 2012

আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সিলেটের পরিবেশ

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান

জানুয়ারী ১৬, ২০১২
আমাদের চতুষ্পার্শ্বস্থ অবস্থান হচ্ছে আমাদের পরিবেশ। মৃত্তিকা, জলবায়ু, গাছপালা এবং জন্তু-জানোয়ার যেসবের সমাহারে আমাদের পৃথিবীটা গড়ে উঠেছে, তাদের সামগ্রিক অবস্থানকেও সাধারণভাবে আমরা পরিবেশ বলে থাকি। সদর্থে শুধু আমাদের বাইরের অবস্থান নয়, আমাদের স্বীয় অবস্থানও পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশদূষণ বলতে আমরা অনেক সময় আমাদের বাসস্থানের বাইরে জল বা বায়ুর দূষণ বোঝালেও শব্দটি আমাদের ঘরের অভ্যন্তরের এবং ঘরের বাইরের দূষণকেও বোঝায়। প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের চেয়েও বেশী অনুভূতিপ্রবণ ও স্পর্শকাতর। পরিবেশের রাগ-অভিমানের সঙ্গে মানিয়ে চলতে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসনে নানা ট্যাবু বা বিধি নিষেধের জন্ম হয়েছে। সেই পরিবেশের মক্ষীরানী উদ্ভিদ। সেই উদ্ভিদকে আমরা পোষ মানাই ও আদর যত্ন করি আর তার প্রতিদানে আমরা অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয় ও ঔষধ পেয়ে থাকি। আমাদের পরিবারের একজন ভেবে তার যত্নাদি ও দেখভাল করতে হবে। শিশু, যুবক ও বৃদ্ধের মতো তা কখনও মেজাজি, দেমাকি বা অনুকম্পাপ্রার্থী ।
ইংরেজিতে অ্যাবঅরিজিন, অ্যাবঅরিজিন্যালস ও ইন্ডিজেনাস শব্দগুলো নিয়ে নানা বাহাস। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীরা চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার বছর ধরে সেদেশে বাস করছে আদিবাসীদের পরম উদাহরণ তারাই। একসময় অ্যাবঅরিজিনস বলতে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদেরই বোঝাত।
‘ইন্ডিজেনাস’ পদটি বহু বছর ধরে একটা সাধারণ পদ হিসেবে চলে আসছে। কোনো কোনো দেশে ভিন্ন শব্দের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। যেমন, জনজাতি, প্রথম জাতি, আদিবাসী, পাহাড়ি, যাযাবর ইত্যাদি। জাতিসংঘের মতে, আদিবাসীদের সংজ্ঞায়িত করার চেয়ে শনাক্তিকরণই হবে অধিকতর ফলপ্রদ দৃষ্টিভঙ্গি। মানবাধিকারের বিভিন্ন দলিলের ওপর ভিত্তিই হবে সেই স্ব-শনাক্তিকরণের নির্ণায়ক।
আদিবাসীরা যদি নিজেদেরকে আদিবাসী বলে শনাক্ত করতে চান এবং তাতে তাদের মর্যাদা বা আত্মপ্রত্যয় বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা কিছু সুযোগ-সুবিধা লাভ করেন, তবে আমাদের কী বলার আছে? আদিবাসী বনাম উপজাতির মামলায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। আদিবাসীদের মধ্যকার বৈচিত্র্য ও বিশিষ্টতা লক্ষ করে জাতিসংঘ ‘ইন্ডিজেনাস’ শব্দটির কোনো সংজ্ঞা দেওয়া সমীচীন মনে করেনি। বরং সামান্য কয়েকটি রূপরেখায় শব্দটির একটা ইঙ্গিতময় তাৎপর্য দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। আদিবাসীরা ব্যক্তিপর্যায়ে নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে শনাক্ত করলে সমাজ তাদেরকে সেইভাবে গ্রহণ করবে। উপনিবেশ-পূর্ব ও বসতি-পূর্ব অবস্থার সঙ্গে এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় আদিবাসী অঞ্চল-অধ্যুষিত চতুষ্পার্শ্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে একটা দৃঢ় যোগসূত্র রয়েছে। নির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারায় এবং তার নির্দিষ্ট ভাষা, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সম্প্রদায় হিসেবে আদিবাসীরা তাঁদের পূর্বপুরুষ হতে প্রাপ্ত পরিবেশ ও পদ্ধতির সংরক্ষণ ও নবায়নের ক্ষেত্রে সচেষ্ট।
১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে প্রথম বিশ্ব পরিবেশ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। গত ত্রিশ বছরের পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ১১০০ জন বিজ্ঞানী একটি প্রতিবেদন পেশ করে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনটি ২২ মে ২০০২ লন্ডনে প্রকাশিত পৃথিবীর সমগ্র জনগণকে হুঁশিয়ার করে যে, আগামী ত্রিশ বছরের মধ্যে পৃথিবীর প্রাকৃতিক জগতের ৭০ ভাগ দূষিত, বহু প্রাণীপ্রজাতি বিলুপ্ত এবং বহু দেশের মানবসমাজের অধঃপতন ঘটবে।
বিংশ শতাব্দীতে যেসব দেশ মানবাধিকার ও মানব সভ্যতার কথা বলতে আজ সোচ্চার, সেই সব দেশের অভিযাত্রিক, ভাগ্যান্বেষী, সৈনিক, ব্যবসায়ী ও ধর্মপ্রচারক পৃথিবীর সব ক’টি মহাদেশের আদিবাসীদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিন্ডিয়ান আদিবাসীদের সঙ্গে ৪০০টি চুক্তি করে এবং প্রতিটি চুক্তি ভঙ্গ করে। ঐতিহাসিক হাওয়ার্ড জিন আমাদের এই তথ্যটি দিয়েছেন। মনে হতে পারে, চুক্তি করে ভঙ্গ করার চেয়ে চুক্তি না করাই ভালো। তবে চুক্তি হলে উভয় পক্ষের আরও সংলাপের জন্য একটা প্রস্তুতি থাকে এবং তা অসম্পূর্ণ হলেও একটা বোঝাপড়ার সহায়ক আবহাওয়ার সৃষ্টি করতে পারে।
আদিবাসীদের হিতার্থে বিভিন্ন দেশে যেসব পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে তার মধ্যে একটি সংরক্ষিত এলাকায় বিশেষ জনগোষ্ঠীকে সীমাবদ্ধ রাখার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এই সংরক্ষণের লক্ষণরেখা ভেদ করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আদান-প্রদান বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। আদিবাসীদের সম্পর্কে ছক বেঁধে বিধান দেওয়ার তেমন অবকাশ নেই। বিভিন্ন আদিবাসীদের সমস্যা বিভিন্ন রকম। যেখানে একটি বিশেষ আদিবাসী সংখ্যায় অতি অল্প এবং বিপন্নভাবে জীবন যাপন করছে, যেখানে একটি সীমিত জায়গায় তারা যদি স্বেচ্ছায় একত্র হয়ে বাস করতে চায়, তবে সে ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।
১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রকাশনায় বলা হয়, ‘দেশে পরিবেশদূষণের জন্য ১ হাজার ১৭৬টি শিল্পকারখানা দায়ী।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উত্তরাঞ্চলে ৪১ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।’ ১৪ জুন, ২০০০ জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান উদ্বোধনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে ১৭ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে, আরো ৩০০ বিলুপ্তির পথে।’
পরিবেশদূষণ প্রতিহত করার জন্য শতাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তি বলবৎ করার ব্যাপারে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কেউ কেউ আপত্তি জানাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষাকল্পে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের দেশে দু’শরও বেশি আইন আছে। ১৯৭৩ সালে পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তারপর ১৯৯৫ সালে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণীত হয়। ১৯৯৯ সালে বায়োসেফটি গাইড-লাইন্স অব বাংলাদেশ প্রণয়ন করা হয়।
আদিবাসীদের সম্পর্কে একটা বিতর্ক প্রায়শ উত্থাপিত হয়, যার উত্তর দেওয়া সহজ নয়। আদিবাসীদের নোবল স্যাভেজ বা সম্ভ্রান্ত বন্য হিসেবে কল্পনা করে নানা কল্পকথা এবং তার ওপর ভিত্তি করে নানা তত্ত্বকথা রচিত হয়েছে। দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের আত্তীকরণ কি হবে, না সম্পূর্ণভাবে স্বতন্ত্র থাকবে? আমেরিন্ডিয়ানদের কোনো কোনো গোষ্ঠী সংরক্ষিত এলাকায় বাস করে এবং কিছু বিশেষ সুবিধা ভোগ করে থাকে। আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন হয়নি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আদিবাসী সমাজ যে ভূখণ্ড তাদের বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে, তা নানা চলাচলের পরিক্রমায় গড়ে উঠেছে। আদিবাসীরা পর্যটকদের কৌতূহলের বিষয় হিসেবে বসবাস করবে না। আধুনিক যুগের উৎপাদনব্যবস্থা, সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদির ব্যাপারে তাদের একেবারে বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি আত্তীকরণ বা সামাজিকভাবে একীকরণের পক্ষে নই এবং পরকীকরণেরও পক্ষে নই। আমি মনে করি আদিবাসীরা তারা তাদের মত থাকবে। তবে যেকোনো সামাজিক উন্নয়ন পরিবর্তনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মতকে প্রাধান্য দিতে হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন হবে না, যার ফলে ভিন্ন তরঙ্গের আঘাতে কোনো আদিবাসী সমাজের প্লাবিত বা নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যুগে যুগে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর মধ্যে যাতায়াত হয়েছে। সেই চলাচল থেমে থাকেনি।
১৯৭২ সালে আমাদের সংবিধান প্রবর্তিত হয়। তার পরে স্বদেশী, আদিবাসী স্বার্থ সংরক্ষণে কিছু নতুন আন্তর্জাতিক কনভেনশন হয়েছে। আমাদের দেশে প্রায় ৫৫টি বৃহৎ আদিবাসী সম্প্রদায়সহ মোট ৭৫টির মত আদিবাসী সম্প্রদায় রয়েছে। আইনের চোখে সকলের সমান আশ্রয় নিশ্চিত করে এবং অনগ্রসর জনজাতির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভবপর করা যায় বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে। সংবিধানের দাক্ষিণ্য সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সদিচ্ছা সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের থাকলে দুর্লঙ্ঘ্য কোনো বাধা থাকার কথা নয়। প্রবল ও অগ্রসর সম্প্রদায়ের সঙ্গে অনগ্রসর ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াই করা বড়ই কঠিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত টুলালিপ আমেরিন্ডিয়ান গোষ্ঠীর নেত্রীস্থানীয় জেনেট ম্যাকক্লাউড সেই আইনের লড়াই চালাতে গিয়ে দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি সূর্যের নিচে একটা জায়গা পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছি, কিন্তু আমার গায়ে আমি কেবল গুচ্ছের ফোসকা উঠতে দেখছি।’
আদিবাসীদের যেকোনো সমস্যায় তাদের মতামত গ্রহণ করা বিধেয় ও একান্ত জরুরি। প্রশাসন যে সকল আদিবাসীদের ভালো করতে চায় তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে। তাদের মতামতকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দিলে মঙ্গলাকাঙ্খীর অনুকম্পা-প্রবণতা বুমেরাং হয়ে ফিরে এসে প্রশাসনকে আঘাত করবে। প্রশাসনের ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে অতিষ্ঠ হয়ে প্রশাসন বিপথে চালিত হতে পারে।
আদিবাসীদের স্বকীয় জীবনধারা যাতে অব্যাহত থাকে সেদিকে লক্ষ্য করে তাদের মধ্যে শিক্ষার বিকিরণ ঘটাতে হবে। অনগ্রসরতা দূরীকরণের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। অর্থবল ও বাহুবলের চেয়ে ভাগ্যোন্নয়নে শিক্ষার মূল্য যে সর্বাধিক তা যেকোনো সমাজে বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে চলমানতা লক্ষ করলে আমরা বুঝতে পারব।
আমরা ইকোপার্ক করব পরিবেশ ও মানুষের সার্বিক মঙ্গলার্থে। সেখানে যদি পর্যটকরা বেড়াতে আসে আমরা তাদের অভ্যর্থনা জানাব। কিন্তু সে ইকোপার্কের ফলে আদিবাসীদের গায়ে যেন ফোসাকা না ওঠে এবং তাদের হাহাকার যেন প্রতিধ্বনি না জাগায়।
বাংলাদেশের অবাঙালি আদিবাসীরা বাঙালিদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অধিকতর পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করেন। আদিবাসীদের মধ্যে যে সততা, স্বভাব-সারল্য, বিশ্বস্ততা, পরিচ্ছন্নতাবোধ, আতিথেয়তা আমরা দেখতে পাই তার থেকে আমাদের শেখার রয়েছে। নারী ও বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও সুবিধা বঞ্চিত আত্মীয়স্বজনকে আদিবাসীরা যে চোখে দেখে তার থেকেও আমাদের শেখার রয়েছে।
আদিবাসীদের আর্ট, নৃত্য-গীত ও শিল্পকলা ছাড়াও সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ও নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগনিরাময়ে আদিবাসীরা যুগ যুগ ধরে যে ব্যবস্থার বিধান দিয়ে আসছে সে সম্পর্কে আরো গবেষণা করলে আমরা সকলেই উপকৃত হব।
আমি আগে বলেছি, আজ আবার বলছি ‘স্বদেশ স্বদেশ করিস রে ভাই এদেশ তোদের স্বদেশ নয়’–এমন মন খাঁ-খাঁ করা খেদ যেন আদিবাসীদের মনে না জাগে, সেদিকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সজাগ থাকতে হবে।
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
(১৪ জানুয়ারী ২০১২, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সিলেটের পরিবেশ’’ শীর্ষক কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য)

Sunday, January 15, 2012

আদিবাসীদের সংজ্ঞায়ন নয় শনাক্তকরণই বেশি জরুরি

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছেন, আদিবাসীদের সংজ্ঞায়ন গুরুত্বপূর্ণ নয়, শনাক্তকরণই বেশি জরুরি। পৃথিবীর সব দেশেই আদিবাসীদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে অনেক শেখার আছে। তাদের সততা, স্বভাব-সারল্য, পরিচ্ছন্নতা অন্যতম। আদিবাসীদের চিত্রকলা, নৃত্যগীত ও নিজস্ব ওষুধ উদ্ভাবন ও প্রয়োগ-পদ্ধতি থেকেও শেখার রয়েছে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সিলেটের পরিবেশ’ শীর্ষক তিন দিনের সম্মেলনের (কনভেনশন) সমাপনী অধিবেশনে গতকাল শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ১৪ দফা অভিন্ন দাবির সঙ্গে সংগতি রেখে ছয়টি দাবির ‘সিলেট ঘোষণা’ দিয়ে রাতে সম্মেলন শেষ হয়।
গতকাল সমাপনী উপলক্ষে দিনব্যাপী আটটি ‘টেকনিক্যাল সেশন’ হয়। সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ ও আদিবাসী নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশনে পরিবেশ ও আদিবাসীবিষয়ক ২০টি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন অধিবেশনে সিলেটের সাংসদ ইমরান আহমদ, মৌলভীবাজারের সাংসদ সৈয়দ মুহসীন আলী, সাংসদ নবাব আলী আব্বাস, সিলেটের সাবেক সাংসদ নাজিম কামরান চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কলিমউদ্দিন আহমদসহ আমন্ত্রিত পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, আদিবাসী ও পরিবেশবাদী নেতারা তাঁদের মতামত পেশ করেন।
ওই অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান ও রাজা দেবাশীষ রায়। সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. সালেহ উদ্দিন ও আয়োজকদের পক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বক্তব্য দেন। সম্মেলনের আহ্বায়ক শরিফ জামিল ও সদস্যসচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন।
আকবর আলি খান বলেন, ‘আধুনিক সভ্যতা গড়তে গিয়ে আদিবাসীদের জীবনের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, এ জন্য বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, দেশে এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে আদিবাসীরাই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষক। তারা যে শুধু দেশে থেকে আক্রমণের শিকার হচ্ছে তা-ই নয়, বহিরাক্রমণেরও শিকার হচ্ছে।
সুলতানা কামাল বলেন, ‘আদিবাসীরা আজ নিজভূমে পরবাসী। আদিবাসীদের অধিকার শুধু তাদের অধিকারের বিষয় নয়, এটা আমাদের সবার অস্তিত্বের ব্যাপার।’
‘সিলেট ঘোষণা’য় ছয় দাবি
রাত সাতটায় সর্বশেষ অধিবেশনে আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ছয়টি দাবির ‘সিলেট ঘোষণা’ প্রকাশ করা হয়। সিলেট ঘোষণার দাবিগুলো হচ্ছে: বন ও পাহাড়ের অবক্ষয় বন্ধ করা, জাফলং-জৈন্তার পিয়াইন ও ডাউকি নদী থেকে পাথর উত্তোলনের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ-তৎপরতা বন্ধ করা, মৌলভীবাজারের খেজুরছড়াসহ খাসিয়া পানপুঞ্জিতে গাছ কাটা বন্ধ করে নাহার চা-বাগান মালিকদের বেআইনিভাবে ৪০০ একর বনভূমি আদিবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়া, আদিবাসী শ্রমিকদের চা-বাগানের জমি বন্দোবস্ত বাবদ ভাড়া বা কর প্রদান বন্ধ করা, সিলেটের চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকদের বসতভিটার মালিকানা প্রদানের মাধ্যমে অভিবাসনের স্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়া এবং চা-বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে বৈষম্য দূর করা।
ছয় দাবি আদায়ে বাপা, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন), পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনকে একাত্ম করে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়াস চালানোর কথা সিলেট ঘোষণার সাংগঠনিক প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে সিলেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং ও বেনের দীপেন ভট্টাচার্য বক্তব্য দেন। For more > http://www.prothom-alo.com/detail/news/216703

আদিবাসীদের সংজ্ঞায়ন নয় শনাক্তকরণই বেশি জরুরি

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেছেন, আদিবাসীদের সংজ্ঞায়ন গুরুত্বপূর্ণ নয়, শনাক্তকরণই বেশি জরুরি। পৃথিবীর সব দেশেই আদিবাসীদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে অনেক শেখার আছে। তাদের সততা, স্বভাব-সারল্য, পরিচ্ছন্নতা অন্যতম। আদিবাসীদের চিত্রকলা, নৃত্যগীত ও নিজস্ব ওষুধ উদ্ভাবন ও প্রয়োগ-পদ্ধতি থেকেও শেখার রয়েছে। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সিলেটের পরিবেশ’ শীর্ষক তিন দিনের সম্মেলনের (কনভেনশন) সমাপনী অধিবেশনে গতকাল শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ১৪ দফা অভিন্ন দাবির সঙ্গে সংগতি রেখে ছয়টি দাবির ‘সিলেট ঘোষণা’ দিয়ে রাতে সম্মেলন শেষ হয়।গতকাল সমাপনী উপলক্ষে দিনব্যাপী আটটি ‘টেকনিক্যাল সেশন’ হয়। সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ ও আদিবাসী নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশনে পরিবেশ ও আদিবাসীবিষয়ক ২০টি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন অধিবেশনে সিলেটের সাংসদ ইমরান আহমদ, মৌলভীবাজারের সাংসদ সৈয়দ মুহসীন আলী, সাংসদ নবাব আলী আব্বাস, সিলেটের সাবেক সাংসদ নাজিম কামরান চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কলিমউদ্দিন আহমদসহ আমন্ত্রিত পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, আদিবাসী ও পরিবেশবাদী নেতারা তাঁদের মতামত পেশ করেন। ওই অধিবেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান ও রাজা দেবাশীষ রায়। সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধান পৃষ্ঠপোষক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. সালেহ উদ্দিন ও আয়োজকদের পক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বক্তব্য দেন। সম্মেলনের আহ্বায়ক শরিফ জামিল ও সদস্যসচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। আকবর আলি খান বলেন, ‘আধুনিক সভ্যতা গড়তে গিয়ে আদিবাসীদের জীবনের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছে, এ জন্য বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, দেশে এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে আদিবাসীরাই স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষক। তারা যে শুধু দেশে থেকে আক্রমণের শিকার হচ্ছে তা-ই নয়, বহিরাক্রমণেরও শিকার হচ্ছে। সুলতানা কামাল বলেন, ‘আদিবাসীরা আজ নিজভূমে পরবাসী। আদিবাসীদের অধিকার শুধু তাদের অধিকারের বিষয় নয়, এটা আমাদের সবার অস্তিত্বের ব্যাপার।’ ‘সিলেট ঘোষণা’য় ছয় দাবিরাত সাতটায় সর্বশেষ অধিবেশনে আদিবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় ছয়টি দাবির ‘সিলেট ঘোষণা’ প্রকাশ করা হয়। সিলেট ঘোষণার দাবিগুলো হচ্ছে: বন ও পাহাড়ের অবক্ষয় বন্ধ করা, জাফলং-জৈন্তার পিয়াইন ও ডাউকি নদী থেকে পাথর উত্তোলনের নামে আদিবাসীদের উচ্ছেদ-তৎপরতা বন্ধ করা, মৌলভীবাজারের খেজুরছড়াসহ খাসিয়া পানপুঞ্জিতে গাছ কাটা বন্ধ করে নাহার চা-বাগান মালিকদের বেআইনিভাবে ৪০০ একর বনভূমি আদিবাসীদের ফিরিয়ে দেওয়া, আদিবাসী শ্রমিকদের চা-বাগানের জমি বন্দোবস্ত বাবদ ভাড়া বা কর প্রদান বন্ধ করা, সিলেটের চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকদের বসতভিটার মালিকানা প্রদানের মাধ্যমে অভিবাসনের স্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়া এবং চা-বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে বৈষম্য দূর করা।ছয় দাবি আদায়ে বাপা, বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন), পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনকে একাত্ম করে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়াস চালানোর কথা সিলেট ঘোষণার সাংগঠনিক প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাপতিত্বে সিলেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারী মুক্তিযোদ্ধা কাঁকন বিবি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লেখক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং ও বেনের দীপেন ভট্টাচার্য বক্তব্য দেন। For more go http://www.prothom-alo.com/detail/mid/57/date/2012-01-15/news/216703

Thursday, January 12, 2012

পাহাড়ের টুকরো কথা-০৯

পূর্বকথা
সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢালে প্রায় ১০ হাজার ত্রিপুরা জনজাতির শ্রম দাসত্বের চিত্রটি এভাবেই ফুটিয়ে তুললেন ছোট কুমিরা নামক আদিবাসী পল্লীর নিকুঞ্জ ত্রিপুরা (৭০)।
কিছুদিন আগে পেশাগত কারণে সেখানের ছোট কুমিরা, বড় কুমিরা, সুলতানী মন্দির, মহাদেবপুরসহ বিভিন্ন ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী ঘুরে দেখা যায় ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবেতর জীবন। ভূমিহীন, হত-দরিদ্র ত্রিপুরারা সেখানে অন্যের জমিতে বসবাস করেন। জীবিকার জন্য বংশপরম্পরায় তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিমালিকানার জমি ও ফলবাগানে শ্রম দিতে হয়। বিনিময়ে তাঁরা পান মাথাপিছু দৈনিক ১৪০ টাকা। কোনো কারণে এই শ্রম দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের দিতে হয় বদলি শ্রম অথবা জরিমানা।
এতো কিছুর পরও ফসলের জমি ও ফলবাগানের সম্পদ ভোগ করার কোনো অধিকার তাদের নেই। সেখানে নেই শিক্ষা, চিকিৎসা, স্যানিটেশন, সুপেয় জল বা বিদ্যুৎ সুবিধা। উপরন্তু ঝুপড়ি কুঁড়ে ঘরগুলোতে বসবাসের জন্য একেকটি গ্রাম থেকে তাদের জমির মালিককে বছরে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়-বনাঞ্চল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন টিলায় অনুমতি না থাকায় তারা হারিয়ে ফেলেছেন জুম চাষ ও শিকারের ঐতিহ্য। এতোকিছুর পরেও বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে রয়েছে প্রতি মুহূর্তে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আলাপকালে জানালেন, ত্রিপুরাদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে তারাও ওয়াকিবহাল। কিন্তু সীতাকুণ্ডের জায়গা-জমি 'অকৃষিভুক্ত' বলে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানের খাসজমিতে তাদের পুনর্বাসনে আইনগত সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, তবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সিদ্ধান্ত নিলে বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালা শিথিল করে ত্রিপুরাদের খাসজমিতে পুনর্বাসন করা সম্ভব। এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মনে করেন তারা।

ছোট কুমিরা ত্রিপুরা পল্লীর কর্ণরাম ত্রিপুরা (৪০) এই লেখককে জানান, ব্রিটিশ তারা পাহাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করে গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন সেখানে ৯০টি পরিবারের বসবাস। আশপাশের টিলাসহ গ্রামটি অনেক বছর ধরে জহুর আহমেদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির ইজারাধীন। খুব ভোরে গ্রামের নারী-পুরুষরা 'মালিকের' রাবার বাগানে শ্রম দিতে যান। সেখানে বাগান পরিষ্কার করার পাশাপাশি জঙ্গল থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করার কাজও করেন তারা। এই করে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছে।
কয়েক বছর আগে 'ইপসা' নামের একটি বেসরকারি সংস্থা সেখানে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। বেশকিছু আদিবাসী ছেলেমেয়ে সেখানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে, এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরো গ্রামে।
ইপসা ছাড়া অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এখনো কোনো রকম নাগরিক সুবিধাই গ্রামটিতে পৌঁছে দেয়নি। পানীয়জলের জন্য এখনো গ্রামবাসী পাতকুয়া ও ছড়ার ওপর নির্ভরশীল। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নেই। সন্ধ্যা ঘনালে কেরোসিনের কুপি বাতির টিমটিমে আলোই ভরসা।
অন্যদিকে, মহাদেবপুর ত্রিপুরা পল্লীতে কোনো স্কুলও নেই। সেখানে বসবাসকারী ৪৫টি আদিবাসী পরিবার ভিন্ন ধরনের শোষণের শিকার। ওই পল্লীর পঞ্চকুমার ত্রিপুরা (৬৫) এই লেখককে জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে জঙ্গল পরিষ্কার করে তারা গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানকার ইজারাদার ইস্কান্দর চৌধুরীর সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে গ্রামবাসী আশপাশের টিলায় বিশাল কাঁঠাল বাগান ও পেয়ারা বাগান তৈরি করেন।
তখন কথা ছিলো, আদিবাসীরা প্রতিবছর এসব ফলের আধাআধি ভাগ পাবেন। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই চুক্তির কথা অস্বীকার করেন ইজারাদার। তখন থেকেই ফলদ সম্পদের ওপর অধিকার হারিয়ে গ্রামবাসী নিজেদের তৈরি ফলবাগানে বাধ্যতামূলক শ্রম দিয়ে আসছেন। ইজারাদারের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা বাগান ও গ্রামের ইজারাদার হয়েছেন। কিন্তু আদিবাসীদের ভাগ্য ফেরেনি।
ওই গ্রামের বাসিন্দা মনিবালা ত্রিপুরা (৫০) বললেন:
মালিক আমাদের জমি থেকে উঠে যেতে বললে যে কোনো সময় উচ্ছেদ হতে হবে। তখন আমরা যাব কোথায়? ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খাব কী? এখানে তবু কোনো রকমে বেঁচে তো আছি!..
ত্রিপুরা গ্রামগুলো ঘুরে দেখার পুরো সময় সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীর ছোট্ট দলটিকে ঘিরে রাখে এক ঝাঁক হতদরিদ্র আদিবাসী শিশু। অধিকাংশই বাংলা ভাষা বোঝে না, শহুরে 'বাঙাল'দের কাজকর্ম দেখাতেই তাদের যতো আগ্রহ।কাজের ফাঁকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরাতে তোলা হয় বেশকিছু আলোকচিত্র।
সব দুঃখগাঁথা ছাপিয়ে ছবি তুলতে শিশুরাই দেখায় ব্যপক উৎসাহ।
চন্দ্র বিজয় বা নয়া গ্যালাক্সি আবিস্কার বা ক্লোনের পর ল্যাবরেটরীতে প্রাণ সৃষ্টির মহা মহা কীর্তি গাঁথার যুগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে অল্প কয়েক কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথের পাহাড়ের কোলের ত্রিপুরাদের এই দূরাবস্থার কথা জেনে পথপ্রদর্শক সহযাত্রী ত্রিপুরা ছাত্রছাত্রীদের মুখে বাক্য সরে না।
খাগড়াছড়ির বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী পিপিকা ত্রিপুরা ফেরার পথে বললেন:
এখানের আদিবাসীরা এখনো যেনো সেই সামন্তযুগেই আটকে আছে! দু-মুঠো আহার যোগাড় করতেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম জীবনপাত করছে। কেউ তাদের পাশে নেই!
---
সংযুক্ত: এ যুগেও ১০ হাজার ত্রিপুরা আদিবাসী শ্রমদাস, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৪ জুলাই ২০১০।

পাহাড়ের টুকরো কথা-০৯

পূর্বকথা
সেই ব্রিটিশ আমল থেকে আমরা অন্যের জমিতে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে মজুরি (শ্রম) দিয়ে আসছি। কেউ মজুরি দিতে না পারলে তার বদলে গ্রামের অন্য কোনো নারী-পুরুষকে মজুরি দিতে হয়। নইলে জরিমানা বা শাস্তির ভয় আছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় যেকোনো সময় জমি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের ঢালে প্রায় ১০ হাজার ত্রিপুরা জনজাতির শ্রম দাসত্বের চিত্রটি এভাবেই ফুটিয়ে তুললেন ছোট কুমিরা নামক আদিবাসী পল্লীর নিকুঞ্জ ত্রিপুরা (৭০)।
কিছুদিন আগে পেশাগত কারণে সেখানের ছোট কুমিরা, বড় কুমিরা, সুলতানী মন্দির, মহাদেবপুরসহ বিভিন্ন ত্রিপুরা আদিবাসী পল্লী ঘুরে দেখা যায় ভাষাগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানবেতর জীবন। ভূমিহীন, হত-দরিদ্র ত্রিপুরারা সেখানে অন্যের জমিতে বসবাস করেন। জীবিকার জন্য বংশপরম্পরায় তাঁদের বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিমালিকানার জমি ও ফলবাগানে শ্রম দিতে হয়। বিনিময়ে তাঁরা পান মাথাপিছু দৈনিক ১৪০ টাকা। কোনো কারণে এই শ্রম দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের দিতে হয় বদলি শ্রম অথবা জরিমানা।
এতো কিছুর পরও ফসলের জমি ও ফলবাগানের সম্পদ ভোগ করার কোনো অধিকার তাদের নেই। সেখানে নেই শিক্ষা, চিকিৎসা, স্যানিটেশন, সুপেয় জল বা বিদ্যুৎ সুবিধা। উপরন্তু ঝুপড়ি কুঁড়ে ঘরগুলোতে বসবাসের জন্য একেকটি গ্রাম থেকে তাদের জমির মালিককে বছরে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়-বনাঞ্চল ও ব্যক্তিমালিকানাধীন টিলায় অনুমতি না থাকায় তারা হারিয়ে ফেলেছেন জুম চাষ ও শিকারের ঐতিহ্য। এতোকিছুর পরেও বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে রয়েছে প্রতি মুহূর্তে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার আতঙ্ক।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা আলাপকালে জানালেন, ত্রিপুরাদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে তারাও ওয়াকিবহাল। কিন্তু সীতাকুণ্ডের জায়গা-জমি 'অকৃষিভুক্ত' বলে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানের খাসজমিতে তাদের পুনর্বাসনে আইনগত সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, তবে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল সিদ্ধান্ত নিলে বিশেষ বিবেচনায় নীতিমালা শিথিল করে ত্রিপুরাদের খাসজমিতে পুনর্বাসন করা সম্ভব। এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মনে করেন তারা।

ছোট কুমিরা ত্রিপুরা পল্লীর কর্ণরাম ত্রিপুরা (৪০) এই লেখককে জানান, ব্রিটিশ তারা পাহাড় ও জঙ্গল পরিষ্কার করে গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখন সেখানে ৯০টি পরিবারের বসবাস। আশপাশের টিলাসহ গ্রামটি অনেক বছর ধরে জহুর আহমেদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির ইজারাধীন। খুব ভোরে গ্রামের নারী-পুরুষরা 'মালিকের' রাবার বাগানে শ্রম দিতে যান। সেখানে বাগান পরিষ্কার করার পাশাপাশি জঙ্গল থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করার কাজও করেন তারা। এই করে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছে।
কয়েক বছর আগে 'ইপসা' নামের একটি বেসরকারি সংস্থা সেখানে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। বেশকিছু আদিবাসী ছেলেমেয়ে সেখানে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে, এমন একজনকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি পুরো গ্রামে।
ইপসা ছাড়া অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এখনো কোনো রকম নাগরিক সুবিধাই গ্রামটিতে পৌঁছে দেয়নি। পানীয়জলের জন্য এখনো গ্রামবাসী পাতকুয়া ও ছড়ার ওপর নির্ভরশীল। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নেই। সন্ধ্যা ঘনালে কেরোসিনের কুপি বাতির টিমটিমে আলোই ভরসা।
অন্যদিকে, মহাদেবপুর ত্রিপুরা পল্লীতে কোনো স্কুলও নেই। সেখানে বসবাসকারী ৪৫টি আদিবাসী পরিবার ভিন্ন ধরনের শোষণের শিকার। ওই পল্লীর পঞ্চকুমার ত্রিপুরা (৬৫) এই লেখককে জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে জঙ্গল পরিষ্কার করে তারা গ্রামটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানকার ইজারাদার ইস্কান্দর চৌধুরীর সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে গ্রামবাসী আশপাশের টিলায় বিশাল কাঁঠাল বাগান ও পেয়ারা বাগান তৈরি করেন।
তখন কথা ছিলো, আদিবাসীরা প্রতিবছর এসব ফলের আধাআধি ভাগ পাবেন। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই চুক্তির কথা অস্বীকার করেন ইজারাদার। তখন থেকেই ফলদ সম্পদের ওপর অধিকার হারিয়ে গ্রামবাসী নিজেদের তৈরি ফলবাগানে বাধ্যতামূলক শ্রম দিয়ে আসছেন। ইজারাদারের মৃত্যুর পর তার ছেলেরা বাগান ও গ্রামের ইজারাদার হয়েছেন। কিন্তু আদিবাসীদের ভাগ্য ফেরেনি।
ওই গ্রামের বাসিন্দা মনিবালা ত্রিপুরা (৫০) বললেন:
মালিক আমাদের জমি থেকে উঠে যেতে বললে যে কোনো সময় উচ্ছেদ হতে হবে। তখন আমরা যাব কোথায়? ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে খাব কী? এখানে তবু কোনো রকমে বেঁচে তো আছি!..
ত্রিপুরা গ্রামগুলো ঘুরে দেখার পুরো সময় সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মীর ছোট্ট দলটিকে ঘিরে রাখে এক ঝাঁক হতদরিদ্র আদিবাসী শিশু। অধিকাংশই বাংলা ভাষা বোঝে না, শহুরে 'বাঙাল'দের কাজকর্ম দেখাতেই তাদের যতো আগ্রহ।কাজের ফাঁকে মোবাইল ফোনের ক্যামেরাতে তোলা হয় বেশকিছু আলোকচিত্র।
সব দুঃখগাঁথা ছাপিয়ে ছবি তুলতে শিশুরাই দেখায় ব্যপক উৎসাহ।
চন্দ্র বিজয় বা নয়া গ্যালাক্সি আবিস্কার বা ক্লোনের পর ল্যাবরেটরীতে প্রাণ সৃষ্টির মহা মহা কীর্তি গাঁথার যুগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে অল্প কয়েক কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথের পাহাড়ের কোলের ত্রিপুরাদের এই দূরাবস্থার কথা জেনে পথপ্রদর্শক সহযাত্রী ত্রিপুরা ছাত্রছাত্রীদের মুখে বাক্য সরে না।
খাগড়াছড়ির বাসিন্দা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী পিপিকা ত্রিপুরা ফেরার পথে বললেন:
এখানের আদিবাসীরা এখনো যেনো সেই সামন্তযুগেই আটকে আছে! দু-মুঠো আহার যোগাড় করতেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম জীবনপাত করছে। কেউ তাদের পাশে নেই!
---
সংযুক্ত: এ যুগেও ১০ হাজার ত্রিপুরা আদিবাসী শ্রমদাস, দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৪ জুলাই ২০১০।

আদিবাসী, ভূমি ও জীবন

আদিবাসীদের কাছে ভূমিই জীবন, ভূমিই অস্তিত্ব। আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কিছু বলার আগে, সম্পদ, ভূমি, বন, প্রাণী জগত, ধরিত্রী ও অধিকার সম্পর্কে আদ...