Saturday, February 15, 2014

ভ্যালেন্টাইন ডে ও আমরা                             
                                        -সন্তোষ ডি. কারগিল

 
অতি সম্প্রতি আমাদের দেশীয় সমাজে খুব ঘটা করে ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালবাসা দিবস পালন করার উৎসাহ এবং উদ্দীপনা খুব যত্ন সহকারে লক্ষ করছি। আসুন আমরা ভ্যালেন্টাইন ডে সম্পর্কে ইতিহাসে কি আছে সেটা একটু ঘুরে আসি।

The new Encyclopedia Britannica
এবং Encyclopedia Americana সহ আরো অনেক গ্রন্থে জানা যায়রোমান এক খ্রিস্টান পাদ্রী নাম সেন্ট ভ্যালেন্টাইন, চিকিৎসা বিদ্যায় ছিল অভিজ্ঞ। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসে আদেশে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। সে যখন বন্দী ছিল তখন তরুন-তরুনীরা তাকে ভালোবাসা জানিয়ে জেলখানার জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দী অবস্থাতেই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন জেলারের অন্ধ মেয়ের চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেয়ার চিকিৎসা করে। এসময় মেয়েটির সাথে তার হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মৃত্যুর আগে মেয়েটিকে লেখা এক চিঠিতে সে লিখে- " from your Valentine" অনেকের মতে, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নাম অনুসারেই পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে "সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে" হিসেবে ঘোষণা দেয়।
আরো একজন ভ্যালেন্টাইনের নাম পাওয়া যায় ইতিহাসে। রোমান সম্রাট ক্লাডিয়াস যুদ্ধের জন্য ভালো সৈন্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যুবকদের বিয়ে করতে নিষেধ করে। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নিয়ম ভঙ্গ করে প্রেম করে, পরে আইন ভেঙ্গে বিয়ে করে। ফলে তাদের মৃত্যুদন্ড হয়।
মূলত এরও বহু আগে থেকে রোমানদের দুটি প্রথা বা অনুষ্ঠান চালু ছিলো। . প্রেম এবং বিয়ে।
. পুরুষের পুরুষত্ব মেয়েদের মেয়েলীত্ব ক্ষমতা বিষয়ে উৎসব।
লুপারকালিয়া এসব উৎসবের অন্যতম। এই অনুষ্ঠান হতো ১৫ ফেব্রুয়ারি। এর আগের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি তরুন-তরুনীরা লটারীর মাধ্যমে নাচের পার্টনার নির্বাচন করতো। ৪০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে দুই দিনের পরিবর্তে একদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। অনেকে মনে করতো, ১৪ ফেব্রুয়ারি পাখিরা তাদের সঙ্গী বেছে নেয়। এদিনটা পালনের ক্ষেত্রে রোমানরা লটারী করে তাদের পছন্দনীয় পুরুষ এবং মহিলা নির্বাচন করতো। ১৭০০ সালের দিকে ইংরেজ রমনীরা কাগজে তাদের পরিচিত পুরুষদের নাম লিখে পানিতে ছুড়ে মারত কাদামাটি মিশিয়ে। যার নাম প্রথমে ভেসে উঠতো সেই হতো প্রকৃত প্রেমিক।
ষোড়শ শতাব্দীর থেকে কাগজের কার্ড বিনিময় শুরু হয়। ১৮০০ সাল থেকে তামার প্লেটে একই ডিজাইনের অনেক কার্ড ছাপা হয়। এভাবেই তথাকথিত ভালোবাসা দিবস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
১৯৯৩ সালে যায়যায়দিন-এর মাধ্যমে শফিক রেহমানের হাত ধরে ভ্যালেন্টাইন ডে এর আগমন বলে অনুমান করা যায় তবে দিবসটির আনুষ্ঠানিক ব্যাপ্তি লাভ করে প্রায় অর্ধদশক এর মধ্যে

 

Sunday, May 12, 2013

আদিবাসীর স্বীকৃতি কেন রাষ্ট্র সইতে পারবে না- বাংলানিউজকে চাকমা রাজা

আদিবাসীর স্বীকৃতি কেন রাষ্ট্র সইতে পারবে না বাংলানিউজকে চাকমা রাজা
Copied from http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=500e0f4202bd5a52ca377fc17a762f8d&nttl=12052013195711 

আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের কাঁধে কি এমন অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তাবে যা সইতে পারবে না, তা বুঝতে পারি না। সরকার আদিবাসীদের যেন না দেখার ভান করছে। তারা যেন পাহাড়ে জুমচাষ দেখে না। বিস্ময়কর হলো, এতো বঞ্চনার মাঝেও আদিবাসীরা নিজস্ব ঐতিহ্য আর স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। টিকে আছে। আশা ছেড়ে দেয়নি।

আদিবাসীদের হয়ে এভাবেই না পাওয়ার বেদনা ফুটিয় তুলছিলেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। সম্প্রতি বাংলানিউজের সঙ্গে রাঙামাটিতে দীর্ঘক্ষণ একান্ত কথা বলেন ৫১তম এই চাকমা রাজা। যিনি মনেপ্রাণে প্রজাদের ভালোবাসেন। প্রজাদের খোঁজ নিতে ঘুরে বেড়ান পাহাড়ে পাহাড়ে। 

তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট সাইদ আরমান ও স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মাজেদুল নয়ন। সঙ্গে ছিলেন সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট শোয়েব মিথুন। 

চাকমা রাজা বলেন, “আমাদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের কাঁধে এমন কি দায়িত্ব বর্তাবে? স্বীকৃতি না দিতে যেসব অজুহাত দেখানো হয়, তা কারণ হতে পারে না। বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথা চাড়া দেবে। কীভাবে এমন কথা বলা হয় বুঝি না। আমাকে রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটি হবে সম্পৃক্ততাবাদ। আমি সেটি মনে করি। আমার নাম যদি সংবিধানে আসে তবে তো আমি রাষ্ট্রের সঙ্গে মিশে গেলাম। তাই নয় কি?” CHAKMA-RAJ-02

অনেকটা দুঃখ আর প্রজাদের না বলা কথা নিজে বলতে গিয়ে ক্ষোভ নিয়েই বলেন, “বিচ্ছিন্ন হতে চাইলে তো আরেকটি রাষ্ট্র ঘোষণা করতাম। আরেকটি সংবিধান চাইতাম। এই দেশে যুক্ত হলে আমি মনে প্রাণে বাঙালি হয়ে যাবো। আমার নামটা না থাকলেই বরং বিছিন্নতাবাদী হওয়ার সুযোগ থাকে।” 

তিনি বলেন, “আদিবাসীরা তাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখেনি। রেখেছে রাষ্ট্র। তবে রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, জাতীয় আইনে যেটিই বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে আদিবাসী জাতি হিসেবেই আমরা পরিচিত। আমরা নতুন কিছু চাই না। এখন নতুন রাষ্ট্র গঠনে অন্তর্ভুক্ত করুন। তবে প্রেক্ষাপট অনুসারে।” 

নিজেদের আদিবাসী দাবি করার কারণ হিসেবে য‍ুক্তিও তুলে ধরেন তিনি। 

দেবাশীষ রায় বলেন, “যারা প্রথাগত আইনে চলছে, দলিল নেই, গোষ্ঠীগত বসবাস, তারাই আদিবাসী। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অধিকার ছাড়াও সমষ্ঠিগত অধিকার রক্ষা করে চলতে চাই। এরাই তো আদিবাসী। তবে আমাকে মেনে নিলেই কি সব ছেড়ে দিতে হবে? পাংখোয়ার কেউ কি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবে? হবে না। মেনে নিলে সরকারের উন্নয়ন নীতিতে শুধু মনে রাখতে হবে। এর থেকে বেশি দিতে হবে না। পদমর্যাদা মন্ত্রী হতে হবে না, শুধু দৃষ্টিভঙ্গীটা পাল্টাতে হবে।”

চাকমা সম্প্রদায়ের এই অভিভাবক বলেন, “এখানে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আদিবাসীকে মেনে নিলে সমঅধিকার চর্চার সুযোগ হবে। আদিবাসীদের বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি প্রণয়ন করতে হবে। আমি জানি না, আরও শত বছর অপেক্ষা করতে হবে কি না।” 

সাক্ষাৎকারে রাজা বলেন, “এতো ঝুঁকি আর প্রতিবন্ধকতা মেনে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রজাদের সন্তানেরা স্কুলে যাচ্ছে। যারা ক্ষুদ্র জনসংখ্যার জাতি তাদের একটু সমস্যা হয়। তাদের আত্মীয়-স্বজন কম। তাদের সুযোগ কম, সামাজিক বন্ধন কম। তাদের জন্য আবাসিক সুবিধা করতে শহরে হোস্টেল থাকা দরকার। যাতে সেখানে থেকে পড়াশুনা করতে পারে। এরপরও সৎ সাহস রয়েছে। আদিবাসীদের জীবনটাও যেন একটা সংগ্রাম।” CHAKMA-RAJ-03

“বিগত ১০ বছর ছাড়া সারা পৃথিবীতে যারা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, তাদের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, আপনাদের সংবিধানে কয়টি শব্দ দিয়েছেন অথবা সংবিধান প্রণয়নের সময় রাষ্ট্র পরামর্শ করেছে কি না। উত্তর হবে, না।” 

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। উনি বলেছিলেন, চাকমা বাঙালি হতে পারে না। আমার জাতীয় পরিচয় বাঙালি হতে পারে না। সেটিই ঠিক। তখন সেটি মানা হলে আজ সমস্যা হতো না।” 

রাজা বলেন, “আইনেও আছে আদিবাসী। ক্ষুদ্র, নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনেও ভেতরে বলা আছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে আদিবাসী বোঝাবে এটা আমরা লিখিনি। সাংসদরা দিয়েছেন। বর্তমান সরকারই করেছে।”

দেবাশীষ বলেন, “পাবর্ত্য চুক্তির অবাস্তবায়িত অংশ অনেক রয়ে গেছে। এর বাস্তবায়িত অংশ ও পদ্ধতি কার্যকর করলে অনেক সুফল পাবো।  সরকারের কাছ থেকে কিছুই পাই না। হেডম্যানরা-কারবারিরা কীভাবে বিচার, আইনশৃংখলা পরিবেশ রক্ষা করবেন? কীভাবে প্রথাগত এসব প্রতিষ্ঠান টিকে থাকবে? আমরা প্রতীক্ষায় আছি, প্রধানমন্ত্রী এসব প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে। তাদের সব ধরনের সহায়তা দেয়।” 

তিনি বলেন, “একজন হেডম্যান ১ হাজার টাকা আর কারবারি ৫০০ টাকা ভাতা পায়। কীভাবে চলবে তারা? খাজনা যেটি পায় তাও খুবই নগন্য। হেডম্যানরা না থাকলে মামলার চাপে ওসিরা থাকতে পারত না। তারা না থাকলে পাহাড়ে ওসিরা মামলার চাপে থাকত পারত না। তবে কেন সরকার তাদের সহায়তা দেবে না। দেখা যায়, একজন ৩ টাকার খাজনা পরিশোধ করে। অথচ তার পেছনে হেডম্যানের খরচ ২০ টাকা। অথচ এখানে সরকারের লোকজন রাখতেও তো খরচ করতে হতো।” 

তিনি বলেন, “সরকার আদিবাসী না দেখার ভান করছে। সরকার পাহাড়ে জুম চাষ দেখে না। কেউ পছন্দ করে না। জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) বলেন, আদিম। আদিবাসী নাই বললে কি উড়ে যাবে? উড়ে যাবে না। প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে আছে। তবে দুর্বলভাবে আছে। রাষ্ট্রের সহায়তা দরকার।” CHAKMA-RAJ-01

চাকমা রাজার মতে, পার্বত্য মন্ত্রণালয়কে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কেউ বলছেন, পূর্ণমন্ত্রী হলে ভালো হবে। কারণ প্রতিমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আঞ্চলিক পরিষদের ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী ফোকাল পয়েন্ট থাকতে পারে। তবে মেইন স্টিমে আসবে। সেটি হলে হাস্যকর কিছু হবে না। সব মন্ত্রণালয়ের পাহাড়ের কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পদ্ধতি হতে পারে। সেখান থেকে সেটি আঞ্চলিক পরিষদে আসবে। তারা মতামত দিয়ে পাঠাবে।” 

“পাহাড়ি-বাঙালি পুলিশ এক সঙ্গে থাকলে স্বস্তি বোধ করেন স্থানীয়রা”- এ কথা জানিয়ে চাকমা সার্কেল চিফ বলেন, “এটি করলে সমস্যা কোথায়। প্রয়োজনে এক জাতির পুলিশ আরেক জাতির এলাকায় দেওয়া যেতে পারে। সব ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে কেন। মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে কমিউনিটি পুলিশ চালু করা যেতে পারে।”

পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে সংঘাত বিষয়ে তিনি বলেন, “সাধারণ আদিবাসীরা এটি চায় না। আমি একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন আমার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হয়, আমি নাকি দুই দলকে এক করে সংঘাতে লাগিয়ে দিচ্ছি। সেটি ঠিক নয়। আমি চাই না, আমার যুবকরা মারা যাক। আমি চেষ্টা করেছিলাম বছর তিনেক আগে। সংলাপও হয়। তবে বেশি দূর এগিয়ে নেওয়া যায়নি। ফসকে গেছে।” 

আদিবাসী, ভূমি ও জীবন

আদিবাসীদের কাছে ভূমিই জীবন, ভূমিই অস্তিত্ব। আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কিছু বলার আগে, সম্পদ, ভূমি, বন, প্রাণী জগত, ধরিত্রী ও অধিকার সম্পর্কে আদ...