Wednesday, September 06, 2017

মনের জোর বাড়ানোর উপায়

কখনো কি ভেবে দেখেছেন, জীবনটা একেক দিনে একেক রকম হয় কেন? কখনো হতাশার, মন খারাপের আবার কখনো আনন্দের-অনুপ্রেরণার। আপনার একেকটা দিন একেক রকম কেন হচ্ছে? টাইম  ম্যাগাজিনে মনোবিদ অ্যামি মরিন জানাচ্ছেন, আমাদের দিন কেমন কাটবে, সেটা নির্ভর করছে মানসিক অবস্থা-মনের জোরের ওপর। ভালো থাকতে নিজের জন্য কয়েকটি অভ্যাস তৈরি করতে পারেন, যা কিনা মনের জোর বাড়াবে। টাইম  ম্যাগাজিনে মনোবিদ অ্যামি মনের জোর বাড়ানোর কয়েকটি উপায় বাতলেছেন।

১. কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করুন: আপনার গাড়ির চালক কিংবা ঘরের গৃহকর্মীকে শেষ কবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন? মনে মনে কৃতজ্ঞ হওয়ার চেয়ে কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করুন মুখে! অন্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে, শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন শুরু করুন। কৃতজ্ঞতাবোধের অভ্যাস করতে বেশি সময় কিন্তু লাগে না| দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই শুরু করা যায় কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ।

২. নিজের চেনা পরিবেশ থেকে বাইরে আসুন: প্রতিদিন একই কাজ করতে করতে আমাদের মধ্যে আলস্য ভর করে। নিজেই আলস্য কাটানোর উপায় তৈরি করতে পারেন। যে পথ ধরে প্রতিদিন বাজারে যান, অন্য পথে এখন থেকে বাজারে যাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। লিফটের বদলে সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে চলার নতুন অভ্যাস করুন।

৩. নিজেকে একা সময় দিন: দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততাকে একপাশে রেখে দিনের কোনো একটি সময় নিজেকে সময় দিন। মিনিট দশেক সময় দিন। একাকী এই সময়ে নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলুন, নিজের সমস্যাগুলো কী কী, জীবন ১০ বছর পরে কোথায় যাবে, তা নিয়ে ভাবুন। ছুটির সময় টিভির সামনে সময় কম কাটিয়ে বই পড়ুন, কিংবা ছাদের এক কোণে নিজের জন্য একটু সময় দিন।

৪. নিজের দক্ষতা বাড়ান: ভালো প্রযুক্তি ব্যবহার জানেন, কিংবা অন্য কোনো কাজে দারুণ দক্ষ আপনি? এগুলোকে আপনি নিজের সুপারপাওয়ার ভাবতে পারেন। এগুলো আসলে সুপারপাওয়ার নয়! আপনি হয়তো খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠেন, কিংবা যেকোনো সমস্যার গাণিতিক ও কার্যকর সমাধান নিয়ে ভাবতে পারেন| এসবই আপনার সুপারপাওয়ার। কী নিয়ে চিন্তা করতে হয়, তা না ভেবে কীভাবে চিন্তা করতে হয়, তা-ই জানা সুপারপাওয়ার। ছুটির সময় নিজের দুর্বলতা আর শক্তিগুলো একটি কাগজে লিখে আগামী ছয় মাস কীভাবে সুপারপাওয়ার বাড়াবেন, তা নির্ধারণ করুন।

৫. সমস্যাকে সুযোগ হিসেবে তৈরি করুন: অফিসে দেরি করে যান বলে বসের রাগ আপনার ওপর ঝরে? ঘুম থেকে দেরিতে ওঠেন বলেই তো দেরি হয়, আবার দেরি করে অফিসে গেলে কাজের চাপ, মনের চাপও বেশি থাকে। অফিসে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে আসুন, বাড়তি সময়টায় বই পড়ুন, পত্রিকা পড়ুন, সারা দিন কী কাজ করবেন, তা ঠিক করে নিন—এভাবে সমস্যা থেকে সুযোগ তৈরি করুন। ছুটির সময় প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভাঙার অভ্যাস করুন।


7 Free Online Monitoring and Evaluation Courses

Developing a career in Monitoring & Evaluation on average takes between 3 – 10 years depending on nature of projects, themes, industry or even education level. Starting out as a fresh graduates requires that you get the right mix of mentor-ship, guidance and training. Most professionals would prefer a wide range training initially and then specializing as they move along.

Below are some of the free training resources and online training websites available.
  1. The PLACE Course from Measure Evaluation - Priorities for Local AIDS Control Efforts (PLACE) method
  2. Population Analysis for Planners – Measure Evaluation
  3. Monitoring & Evaluation Fundamentals – Measure Evaluation
  4. Fundamentals of Implementation Research – Measure Evaluation
  5. GIS Techniques for M&E of HIV/AIDS and Related Programs
  6. Monitoring & Evaluation for Malaria Programs
  7. Passion Driven Statistics – Course Era

Saturday, August 26, 2017

আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারসমূহ



২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে পক্ষে ১৪৩ ভোট, বিপক্ষে ৪ ভোট ও অনুপস্থিত ১১ ভোটে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ আড়াই দশকের কর্মপ্রচেষ্টার সফল পরিসমাপ্তি ঘটে এবং আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়। আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্র নিঃসন্দেহে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি মাইলফলক। 
এই ঘোষণাপত্রে মোট ৪৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। বলা যায় জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম ঘোষণাপত্র। এই ঘোষণাপত্রে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-

1.     আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার;

2.     ভূমি ও ভূখন্ডের উপর অধিকার;

3.     আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর ভূমি ও ভূখন্ডের উপর সামরিক কার্যক্রম বন্ধের অধিকার;

4.     মানবিক ও বংশগত (জেনেটিক) সম্পদসহ সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার;

5.     আদিবাসীদের ভূমি ও ভূখন্ডের উপর থেকে তাদেরকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ থেকে রেহাই পাওয়ার অধিকার;

6.     সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রথা চর্চা ও পুনরুজ্জীবিতকরণের অধিকার;

7.     মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার;

8.     নিজস্ব ভাষায় নিজস্ব সংবাদ মাধ্যম প্রতিষ্ঠার অধিকার;

9.     উন্নয়নের অধিকার প্রয়োগ করার জন্য অগ্রাধিকার তালিকা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ ও গ্রহণের অধিকার;

10.  নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী ঔষধি ও স্বাস্থ্যসেবা সংরক্ষণের অধিকার;

11.  স্বাধীন ও পূর্বাবহিত পূর্বক সম্মতি ব্যতীত ছিনিয়ে নেয়া ভূমি, ভূখন্ড ও সম্পদের পুনরুদ্ধার ও ফেরত পাওয়ার অধিকার ও

12.  নিজেদের নৃতাত্বিক পরিচয়, উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করার অধিকার ইত্যাদি।

আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের অবস্থান


সাধারণ পরিষদে ভোট, পক্ষে, বিপক্ষে, ভোট দানে বিরত কিংবা অনুপস্থিত দেশসমূহ এবং বাংলাদেশের অবস্থান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬১তম অধিবেশনে পক্ষে ১৪৩ ভোট, বিপক্ষে ৪ ভোট ও অনুপস্থিত ১১ ভোটে আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক এই ঘোষণাপত্র চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। নিম্নে সদস্য রাস্ট্রগুলোর অবস্থান তুলে ধরা হলো-

পক্ষে ভোটঃ আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, আনদোরা, এঙ্গোলা, এ্যানটিগুয়া ও বারমুদা, আর্জেনটিনা, আরমেনিয়া, অস্ট্রিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, বার্বাদোস, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বেলাইস, বেনিন, বলিভিয়া, বসনিয় ও হারজেগোবিনা, বটসোয়ানা, ব্রাজিল, ব্রুনেই দারুসসালাম, বুলগেরিয়া, বুরকিনা, ফাসো, কম্বেডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, ডেনমার্ক, যিবুটি, ডোমিনিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, মিশর, এল সালভাদর, এসটোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, গাবোন, জার্মানী, ঘানা, গ্রীস, গুয়েতামালা, গিনি, গায়েনা, হাইতি, হুন্ডোরাস, হাঙ্গেরী, আইসল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, আয়ারল্যান্ড, ইতালী, জ্যামাইকা, জাপান, জর্দান, কাজাকস্তান, কুয়েত, লাওস, লাটভিয়া, লেবানন, লেসোথো, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, লাইষ্টেনটেইন, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাদাগাস্কার, মালাবি, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মালটা, মোরিসাস, মেক্সিকো, মাইক্রোনেশিয়া, মালদোভা, মোনাকো, মঙ্গোলীয়া, মোজাম্বিক, মায়ানমার, নামিবিয়া, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিকারাগুয়া, নিগার, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তা, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, কাতার, প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট, ও গ্রানাদাইসন, সান মারিনো, সৌদি আরব, সেনেগাল, সার্বিয়া, সিয়েরালিওন, সিঙ্গাপুর, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, শ্রীলংকা, সুদান, সুরিনাম, সোয়াজিল্যান্ড, সুইডেন, সুইজার‌ল্যান্ড, সিরিয়া, থাইল্যান্ড, যুগোস্লাভিয়া, তিমুর-লিসতে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তিউনিশিয়া, তুর্কি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত তানজানিয়া, উরুগুয়ে, ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে।

বিপক্ষে ভোটঃ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ভোট দানে বিরতঃ আজারবাইজান, বাংলাদেশ, ভূটান, বুরুন্ডি, কলম্বিয়া, জর্জিয়া, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, সামোয়া, ও ইউক্রেন।

অনুপস্থিতঃ চাদ, কোটে ডি’আইলোরে, ইকোটোয়াল গিনি, ইরিট্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, গ্রানাডা, গিনি-বিসাউ, ইসরাইল, কিরিবাতি, কিরগিস্তান, মারশাল আইল্যান্ড, মৌরিতানিয়া, মন্টিনেগ্রো, মরক্কো, নৌরু, পালাউ, পাপুয়া নিউ গিনি, রোমানিয়া, রোয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সাও টোমে ও ট্রিনসিপে, সিসিলিজ, সোলোমোন আইল্যান্ড, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, টোকো, টঙ্গো, তুর্কিমেনিস্তান, ‍তুভালু, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ও ভানুতু।

পরবর্তীতে মন্টিনিগ্রো এবং অস্ট্রেলিয়া সমর্থন ভোট প্রদান করে। এর ফলে পক্ষে ভোট দাঁড়ায় ১৪৫টি।

বাংলাদেশের অবস্থান ও কারণ ব্যাখ্যাঃ আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্রের উপর ভোট গ্রহণের সময় বাংলাদেশ ভোট দানে বিরত থাকে। অনুমোদনের পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি ইশরাত জাহান আহমেদ বলেন যে, তাঁর মিশন যে কোন অনগ্রসর জাতিগোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি সমর্থন করে। বাংলাদেশ প্রধান প্রধান সকল মানবাধিকার চুক্তির প্রতি অনুগত রয়েছে এবং আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সমর্থন করে। কিন্তু এই ঘোষণাপত্রে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, বিশেষ করে ‘আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী’ সংজ্ঞা নির্ধারিত হয়িনি বা সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়নি। অধিকন্তু ঘোষণাপত্রের উপর সকল সদস্য-রাষ্ট্রের মধ্যে সর্বসম্মত সমর্থন নেই। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ ভোট দানে বিরত থাকে বলে তিনি জানান। 

আদিবাসী, ভূমি ও জীবন

আদিবাসীদের কাছে ভূমিই জীবন, ভূমিই অস্তিত্ব। আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কিছু বলার আগে, সম্পদ, ভূমি, বন, প্রাণী জগত, ধরিত্রী ও অধিকার সম্পর্কে আদ...